মহাবতার শ্রী শ্রী আনন্দ স্বামী মহারাজের "মহামন্ত্র দয়াময় নাম" প্রচার ও সর্বধর্ম মিশন অন্তর্গত মা মনোরমা দয়াময় সংঘের ১১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সিলেটে দুই দিনব্যাপী বাৎসরিক মহোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
আগামী ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার সিলেটে অবস্থিত ঐতিহাসিক বোড়াশীব বাড়ি মন্দিরে পূর্বের ন্যায় এবারও ভাবগম্ভীর পরিবেশে এই মহোৎসব পালন করা হবে।
ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবক্ষয়, ধর্মের গ্লানি এবং ব্রাহ্মণ্যবাদের কঠোর অনুশাসনে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, ঠিক সেই সময় ১২৩৯ বাংলার ১১ই বৈশাখ ধরাধামে আবির্ভূত হন মহাবতার শ্রী শ্রী আনন্দ মহারাজ। তিনি এক ঐশ্বরবাদের তত্ত্ব নিয়ে ‘সর্বধর্ম’ নামের অনন্য এক অসাম্প্রদায়িক ধর্মমতের প্রতিষ্ঠা করেন। ধর্মে ধর্মে বিভাজন দূর করে বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠন করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। তাঁর সাধনা ও সত্যের মূল ভিত্তি ছিল— পরমব্রহ্ম ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়, এবং তিনিই "দয়াময়"। এই মতাদর্শের মূল গ্রন্থ ‘প্রকৃত তত্ত্ব’।
শ্রী শ্রী আনন্দ স্বামিজীর সুযোগ্য শিষ্য মহাসাধক শ্রী শ্রী লব চন্দ্র পাল ‘দয়াময়’ নামের আদেশে ১৩২৬ বাংলার ৫ই পৌষ সর্বধর্ম মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। "মিশন সেবাই জগতের সেবা"— এই বাণীকে সম্বল করে তিনি ভারতীয় উপমহাদেশসহ বিশ্বজুড়ে সর্বধর্মের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রম ও সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন।
জগতের মালিক এক, পরমব্রহ্ম ঈশ্বর— তিনিই 'দয়াময়'। সর্বধর্ম মিশন একদিন সারা বিশ্বের মানবজাতিকে এক প্ল্যাটফর্মে এনে মুক্তির পথ দেখাবে।— মহাসাধক শ্রী শ্রী লব চন্দ্র পাল।
মা মনোরমা দয়াময় সংঘের ১১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মহোৎসব উপলক্ষে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সর্বধর্ম মিশনের সদস্য, ভক্ত ও অনুরাগীবৃন্দ বোড়াশীব বাড়ি মন্দিরে উপস্থিত হবেন। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দিনব্যাপী উৎসবের কর্মসূচিতে থাকবে বিশেষ প্রার্থনা, দয়াময় নামের জপ, ধর্মীয় আলোচনা সভা ও ভক্তদের মাঝে মহাসাদ বিতরণ।
উৎসব সফল করতে সিলেট ও আশপাশের এলাকার সর্বস্তরের ভক্তদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: বাবুল খান মুন্না, মোবাইল নাম্বার: 𝟎𝟏𝟕𝟒𝟕𝟗𝟏𝟓𝟖𝟔𝟎 / 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟒𝟑𝟎𝟓𝟐𝟒𝟒
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত