
বিশেষ প্রতিনিধি:
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় সুরমা নদী থেকে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মূল কারিগর ৩ নম্বর ফুলবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম। অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসাধু উপায়ে রাতারাতি বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক বনে গেছেন এই রহিম।
সাম্প্রতিক সময়ে সুরমা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের মূল মাস্টারমাইন্ড হিসেবেও তাঁর নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি অংশকে সাথে নিয়ে নতুন করে এই বালু উত্তোলন সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। রাতের আঁধার নামলেই সুরমা নদীতে শুরু হয় তাদের তাণ্ডব।
সুরমা নদীর তীরবর্তী হেতিমগঞ্জ, মোল্লাগাঁও ও হিলালপুর এলাকার একাধিক বাসিন্দার সাথে কথা বললে তারা চরম হতাশা প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বিগত ১৭ বছর গুম ও খুনের ভয়ে মানুষ মুখ খুলতে পারেনি। আর এখন দেখছি দল-বল নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে লুটপাট চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষ অভিযোগ দেবে কার কাছে?
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, অবৈধ বালু উত্তোলনের পাশাপাশি হেতিমগঞ্জ বাজারের মাদক বিক্রি সিন্ডিকেটের সাথেও সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে এই রহিমের। মাদকাসক্ত হয়ে পথ হারাচ্ছে এলাকার শত শত তরুণ। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই হেতিমগঞ্জ বাজারের সুরমা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসে মাদকসেবীদের প্রকাশ্য আড্ডা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গোলাপগঞ্জে সাতজন নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও রহিমের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অলৌকিক কারণে মামলার আসামির তালিকা থেকে তিনি বাদ পড়েছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
এ সকল বিষয়ে জানতে আব্দুর রহিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ ও দাম্ভিক আচরণ করেন। সাংবাদিকদের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যা পারেন করেন, অনেক সাংবাদিক দেখেছি। এসব আমি তোয়াক্কা করি না। ড. ইউনুসের আমলেও আমার কিছু করা যায়নি। আইন-প্রশাসন সবই আমার চেনা। আমার বাড়িতে মন্ত্রী নাহিদ ও সাবেক এমপি লেচু মিয়া এসেছিলেন।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছবেদ আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সুরমা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এলাকায় মাদকের সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।